বর্তমানে সবাই কমবেশি ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত। তাই আজকে আমি আপনাদের সামনে কিছু পদ্ধতি বা উপায় তুলে ধরবো  যার মাধ্যমে আপনারা  উপার্জন করতে পারবেন। শুধু থাকতে হবে সদিচ্ছা  এবং সামান্য কিছু জ্ঞান। 

অনলাইন ইনকাম করার সেরা উপায়

অনলাইনে কোনো কাজের অভাব নেই – এই কথাটি কিন্তু একদিক দিয়ে সত্যই বলা চলে। আমাদের দেশের অনেক মানুষের প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকার পরও শুধুমাত্র দরকারী তথ্যের অভাবে বা সঠিক গাইডেন্সের অভাবে অনলাইনে ইনকাম করতে পারেনা।

আসুন আজকে জেনে নেই অনলাইন ইনকাম করার সেরা কতগুলি কার্যকরী উপায় সম্পর্কে।

ফ্রিল্যান্সিং

কোন একটি কোম্পানির বাধা কর্মচারী হিসেবে কাজ না করে, বিভিন্ন কোম্পানির সাথে চুক্তি-ভিত্তিক ভাবে কাজ করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়।  ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে একসাথে এক বা একাধিক কোম্পানির সাথে কাজ করা সম্ভব।

তাই বর্তমানে অনলাইনে ইনকাম করার সবচেয়ে আলোচিত উপায় হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং করা। ফাইভার ও  আপওয়ার্ক হলো এখনকার  ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে সেরা মাধ্যম।  

আপনাদের অনেকের হয়তো নানা ধরণের কাজের দক্ষতা আছে কিন্তু কোবিড অতিমারীর কারণে কাজ পাচ্ছেননা, আপনারা এই দুটি মাধমের সাহায্যে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের লোকেদের কাজ করে দিতে পারেন ঘরে বসেই। 

এখানে ভিডিও এডিটিং থেকে শুরু করে ওয়েব সাইট বানানো, অনলাইন ফর্ম ফিলাপ, কোনো বিষয়ের ওপর লেখা লেখি থেকে ডাটা এন্ট্রি সৰ ধরণের কাজ খুঁজে নিতে পারবেন। 

বর্তমানে ঘরে বসেই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের ক্ল্যায়েন্টের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে। এছাড়াও ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে একজন ফ্রিল্যান্সার এর কাজের স্বাধীনতা থাকায় অনেকেই এই পেশাকে অনলাইনে ইনকাম করার শ্রেষ্ঠ পথ বলে মনে করেন।

ইউটিউবিং

আমরা কমবেশি সবাই ইউটউব এ ভিডিও দেখি, সেটা কোনো গানের বা রান্না করার পদ্ধতি বা পড়া শুনা সংক্রান্ত হতে পারে। তো এটা জানেন কি এই ইউটউব এর মাধমেও অনলাইন ইনকাম করা সম্ভব। 

ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করতে চ্যানেল মনেটাইজ হতে হয়। তাই  ইউটিউব করে আয়ের ক্ষেত্রে কিন্তু কনটেন্ট আপলোডের পর থেকেই ইনকাম করতে পারবেন, এমন না। তাই চ্যানেলটি মনেটাইজ হওয়ার জন্য ১০০০ সাবস্ক্রাইবার ও ৪০০০ঘন্টা ওয়াচ আওয়ার প্রয়োজন হয়।

যেহেতু এই প্রয়োজনীয় সাবস্ক্রাইবার ও ওয়াচ আওয়ার পূর্ণ করতে সময় লাগে, তার মানে হলো ইউটিউবিং করে ইনকাম শুরু করতে প্রথমে আপনার বেশ অনেকদিন খাটতে হবে। তবে মজার ব্যাপার হলো আপনার চ্যানেল একবার স্পটলাইটে আসলে খুব সহজেই গুগল এডসেন্স এর পাশাপাশি আরো বিভিন্ন আয়ের পথ খুলে যাবে।

ইউটিউব থেকে আয়ের একাধিক পথ রয়েছে। যেমনঃ প্রোডাক্ট প্রোমোশন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ইত্যাদি করেও অসংখ্য ইউটিউবার মোটা অংকের আয় করে থাকেন। 

অনলাইন কোচিং

বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যাণে শেখার অন্যতম মাধ্যমে পরিণত হয়েছে অনলাইন কনটেন্টসমুহ। আপনি যদি কোনো বিষয়ে পারদর্শী হয়ে থাকেন, তাহলে অন্যকে তা শিখিয়েও ভালো অংকের অর্থ আয় করতে পারেন।

এছাড়াও আপনার যে বিষয়ে দক্ষতা রয়েছে, তা নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ কোর্স তৈরী করতে পারেন। বর্তমানে অনলাইন কোর্সসমুহের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও ইউটিউবে বিভিন্ন বিষয় শেখানোর মাধ্যমেও আয় করার সুযোগ তো থাকছেই।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

মূলত অন্যের প্রোডাক্ট প্রোমোট ও বিক্রি করার প্রক্রিয়াকে বলা হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। অর্থাৎ অন্যজনের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস আপনি আপনার ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রোমোট করবেন। আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংক থেকে তৈরী হওয়া লিড, সেলস অথবা লিংক ক্লিক এর জন্য আপনি কমিশন পাবেন – এটিই মূলত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ধারণা।

বর্তমানে দেশী বিদেশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার সুযোগ তৈরী হয়েছে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়তে পারেন।

ফটোগ্রাফি

ফটোগ্রাফি করে আয় এর কিন্তু একাধিক কার্যকরী পথ রয়েছে। অনলাইনেও ফটোগ্রাফি এর মাধ্যমে আয় করা সম্ভব। প্রথমত স্টক ফটোগ্রাফি করে সেসব ফটো বিভিন্ন স্টক ফটোগ্রাফি ওয়েবসাইটে দিয়ে আয় করা সম্ভব। এছাড়াও বিভিন্ন ফটোগ্রাফি সম্পর্কিত ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিস প্রদান করেও আয় করা সম্ভব।

ব্লগিং

অনলাইনে ইনকামের আরেকটি অসাধারণ উপায় ধরা হয় ব্লগিংকে। ব্লগিং এর মাধ্যমে ঘরে বসেই আপনার পছন্দের বিষয়ে কনটেন্ট লিখে আয় করতে পারবেন।

ব্লগিং করতে প্রয়োজন পড়বে একটি ওয়েবসাইট এর। আপনি চাইলে ফ্রিতে ওয়েবসাইট খুলেও ব্লগিং শুরু করতে পারেন। তবে ডোমেইন ও হোস্টিং কিনে নিজের একটি ওয়েবসাইট তৈরী করলে সেক্ষেত্রে আপনার ব্লগের সম্পূর্ণ মালিকানা আপনার কাছে থাকে।

ব্লগিং এর ক্ষেত্রে একাধিক উপায়ে অনলাইনে আয় করা সম্ভব। প্রথমত আপনার ব্লগে এড দেখিয়ে আয় করতে পারবেন। গুগল এডসেন্স বা অন্য কোনো এড নেটওয়ার্ক এর সাহায্যে ব্লগে এড যুক্ত করে ব্লগের কনটেন্ট মনেটাইজ করতে পারবেন। এছাড়াও ব্লগের কনটেন্টের মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুযোগ তো থাকছেই।

ওয়েব ডেভলপমেন্ট

বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যেহেতু বাড়ছে, তাই বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হচ্ছে নতুন ওয়েবসাইট তৈরী করার জন্য এক্সপার্টের। আপনি যদি ওয়েব ডেভলপমেন্টে দক্ষ হন, সেক্ষেত্রে দেশে ও বিদেশের প্রচুর কাজ পেতে পারেন।

ওয়েব ডেভলপমেন্ট এর পাশাপাশি অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট মেইনটেইন এর জন্য লোক ভাড়া করে থাকে। এসব কাজে পরিশ্রমের চেয়ে পারিশ্রমিক বেশি পাওয়া যায়। এছাড়াও ওয়েবসাইট ডিজাইন করে আয় করার বিষয়টি বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত বলা চলে।

আপনি যদি ওয়েব ডেভলপমেন্টে যথেষ্ট পারদর্শী হন, সেক্ষেত্রে আপনার নিজেরই বিভিন্ন ওয়েব রিলেটেড প্রোডাক্ট তৈরী করে বিক্রি করতে পারবেন। 

এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হলো ওয়েব ডেভলপমেন্ট সম্পর্কিত আরেকটি ডিমান্ডিং স্কিল। আপনি যদি এসইও এর ক্ষেত্রে দক্ষ হোন, সেক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের এসইও এর কাজ করেও ভালো অংকের অর্থ আয় করতে পারবেন।

সোশ্যাল মিডিয়া

আমরা প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকি। এই সোশ্যাল মিডিয়া কিন্তু অনলাইনে ইনকামের প্রধান একটি মাধ্যমে হতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে অনলাইনে ইনকামের ক্ষেত্রে এই তালিকার একাধিক উপায় কাজে আসতে পারে। যেমনঃ ফেসবুক বর্তমানে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেশ ভালো অবদান রাখছে। আবার আপনি ব্লগিং করলে তার প্রোমোশনের জন্যও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনলাইনে ইনকাম এর প্রধান ট্রাফিক উৎস হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়া।

এসবের পাশাপাশি ফেসবুক গ্রুপ বা পেজে লাইভে গিয়ে পণ্য বিক্রি করেও আয় সম্ভব। আবার অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব তাদের পেজ বা প্রোফাইল ম্যানেজের জন্য লোক নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনি যদি ইনফ্লুয়েন্সার এর ভূমিকা পালন করতে পারেন, তাহলে তো সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে অনলাইন ইনকামের অসংখ্য পথ রয়েছে আপনার জন্য।

ডিজিটাল মার্কেটিং

ডিজিটাল যুগে এসে ডিজিটাল মার্কেটিং এর চল আকাশছোঁয়া হবে, সেটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে ব্যাপক হারে ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা বেড়েছে। আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে দক্ষ হন, তাহলে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে তো বটে, এছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির বিনিময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ করতে পারেন।

অনলাইনে ইনকাম এর উল্লিখিত উপায়ের মধ্যে আপনার পছন্দের কোনটি? আমাদের জানান কমেন্ট সেকশনে। এছাড়াও অনলাইনে ইনকাম সম্পর্কিত আপনার যেকোনো জিজ্ঞাসা আমাদের জানাতে পারেন কমেন্ট সেকশনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>